বিকাশ ঘিরে মানবন্ধন

২৫ জানুয়ারি, ২০২৪ ১৬:১২  

ব্র্যাকের শিক্ষক আসিফ মাহাতাব উৎসর চাকুরিচ্যুতির প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়লো রাজধানীর এসকেএস টাওয়ারের বিকাশ কার্যালয়। বাদ জায়নি মহাখালীর ব্রাক সেন্টারও। সেখানে শত তরুণ-তরুণী প্লাকার্ড হাতে বিকাশসহ সব ব্র্যাক পন্য বর্জনের দাবিতে মানব বন্ধন করেছেন।

এই ইস্যুতে এমএফএস কোম্পানির প্রতিদন্দ্বী কোম্পানি ইন্ধনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেন্ডার ইস্যু নিয়ে সম্প্রতি বক্তব্য দিয়ে এবং সপ্তম শ্রেণীর একটি বইয়ের দুটি পাতা ছিঁড়ে আলোচিত হয়েছেন আসিফ মাহাতাব উৎস। সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষক ফোরামের 'বর্তমান কারিকুলামে নতুন পাঠ্যপুস্তক: বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ' শীর্ষক সেমিনারে জনসম্মুখে সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের 'শরীফ' থেকে 'শরীফা' হওয়ার গল্পটি ছিঁড়ে ফেলেন উৎস। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আসিফ মাহতাব অভিযোগ করেন, "সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান পাঠ্যবই 'শরীফ' থেকে 'শরীফা' হওয়ার গল্প আছে। আমি বইটি বাজার থেকে কিনে নিয়ে এসেছি। এখানে লেখা আছে ছোটবেলা সবাই আমাকে ছেলে বলতো। কিন্তু আমি নিজেই একসময় বুঝলাম আমার শরীরটা ছেলের মতো হলেও আমি মনে মনে একজন মেয়ে। সে (ছেলে) যদি মেয়ে হয় তাহলে তার বিয়ে হবে কার সঙ্গে? অবশ্যই ছেলের সঙ্গে। তার মানে এটা সমকামী, যা আমাদের দেশে অবৈধ। কিন্তু সেটাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে এই গল্পের মাধ্যমে। এটাতো স্কুলে ছেলেমেয়ের এক প্রকার ব্রেনওয়াশের মতো করা হচ্ছে, যেটা ইউরোপ-আমেরিকাতে করা হয়।"

উৎসব এই বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে ব্র্যাকের শিক্ষকতায় আর না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কতৃপক্ষ। এর পর থেকে ব্র্যাকের বিপক্ষে চলছে আন্দোলন। সম্প্রতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেও তাদের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সমাবেশ করেছেন। সেখান থেকে ব্র্যাকের সব পন্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়। আর এই ডাকে সাড়া দিয়ে গতকাল ব্র্যাকের অন্যতম অঙ্গসংস্থা বিকাশের কার্যালয় ঘেরাও করেন তরুন তরুনীরা। সেখানে হাতে বিভিন্নরকম প্লাকার্ড লিখে নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন তারা।

ঘেরাও সমাবেশে থাকা এরকমই এক তরুণ সোহেল মাহমুদ। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের ধর্ম ও সংষ্কৃতি এইসব ট্রান্সজেন্ডার বা সমকামীতাকে অনুমোদন দেয় না। আমরা আমাদের ধর্মের বাইরে যেতে পারি না। উৎস স্যার এই বিষয়টাই বলেছেন। তার ফলে তাকে চাকরি থেকে বের করে দিয়ে ব্র্যাক পশ্চিমা এই অপসংষ্কৃতির পক্ষে দাড়িয়েছে। আমরা তার প্রতিবাদ করছি।’

সমাবেশে থাকা এক তরুনী শাহনাজ ইসলাম বলছিলেন, ‘উৎস স্যার কী অন্যায় করেছেন। তিনি ইসলামের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তাই তাকে চাকরি হারাতে হলো। তাহলে কী এই দেশে ইসলামের পক্ষে কথা বলা যাবে না? ব্রাক আমাদের শত্রুর মত কাজ করেছে। আমরা তাই ব্রাকের সবকিছু বর্জন করতে চাই। বিকাশও আর চলবে না।’

ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয় এই বইয়ের অধ্যায়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করেছে।